স্বরূপনগরের শস্যভাণ্ডার বিলবল্লী আজ বিপন্ন, উৎকণ্ঠায় সীমান্তের কৃষককুল
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্যের অন্যতম কেন্দ্র বিলবল্লী। প্রায় ৫২ হাজার একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠা এই বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও কৃষিভিত্তিক অঞ্চলকে ঘিরে রয়েছে বালতি, কৈজুরী, বাঁকড়া, বাংলানি, শাড়াপুল, গোবিন্দপুর ও বিথারী—এই সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত। লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা আজও নির্ভরশীল এই বিলবল্লীর উপর।
এই ৫২ হাজার একর জমির মধ্যে প্রায় ১০ হাজার একর জলাশয়। সেই জলাশয়কে কেন্দ্র করে মৎস্যচাষীরা মিষ্টি জলের গলদা চিংড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছের চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অন্যদিকে বাকি ৪২ হাজার একর জমিতে স্থানীয় কৃষকরা ধান, পাট, তিল ও সরিষার চাষ করে সংসার চালান।
কিন্তু বর্তমানে এই কৃষিনির্ভর এলাকার সামনে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে বিলবল্লীর বুক চিরে প্রবাহিত সোনাই নদীর গতিপথ। নদীটি একদিকে বসিরহাটের ইছামতীতে গিয়ে মিশেছে, অন্যদিকে তেতুলিয়া সুইচগেট দিয়ে অতিরিক্ত জল প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বাঁকড়া, কৈজুরী ও বালতি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কয়েক হাজার বিঘা জমিতে প্রতিবছর জল জমে ফসল নষ্ট হচ্ছে।
এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। চৈত্র-বৈশাখের কাঠফাটা রোদে যখন মাঠ ফেটে চৌচির হওয়ার কথা, ঠিক সেই সময় উল্টো ছবি ধরা পড়েছে সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে। বিস্তীর্ণ ধান, পাট ও তিলের জমিতে হাঁটু সমান জল জমে রয়েছে। ফলে মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের। বহু চাষির বছরের একমাত্র সম্বল আজ জলের তলায় তলিয়ে যাওয়ার মুখে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাঁরা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, দ্রুত উন্নত তদন্ত ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সোনাই নদীর জলনিকাশি ব্যবস্থার সমাধান করা হোক। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এই কৃষিপ্রধান এলাকার অসহায় কৃষকদের রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবিও তুলেছেন স্থানীয়রা।