05 Aug 2021, 6:20 AM (GMT)

Coronavirus Stats

31,855,725 Total Cases
426,782 Death Cases
31,007,795 Recovered Cases
খবররাজ্য

লোকাল ট্রেন চালুর দাবিতে তুলকালাম মল্লিকপুরে, লাঠিচার্জ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, অবরোধ সোনারপুর, ঘুটিয়ারি শরিফেও

প্রদীপকুমার সিংহ, বারুইপুর: বুধবার সোনারপুরে ট্রেন অবরোধ করেছিল নিত্যযাত্রীরা। বৃহস্পতিবার সকালে আবার ট্রেন অবরোধ হল শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার সোনারপুর সহ কয়েকটি স্টেশনে। কয়েকটি স্টেশনে দু’-এক ঘণ্টা পর অবরোধ উঠে গেলেও মল্লিকপুরে ট্রেন অবরোধ ওঠে প্রায় চার ঘণ্টা পর। অবিলম্বে লোকাল ট্রেন চালু ও স্টাফ স্পেশাল ট্রেনে ওঠার দাবিকে ঘিরে এদিন সকাল থেকে অবরোধ হয় সোনারপুর, ঘুটিয়ারি শরিফ ও মল্লিকপুর স্টেশনে।

সোনারপুর ও ঘুটিয়ারি শরিফ স্টেশনে অবরোধ পুলিশ তুলে দিলেও দফায় দফায় অবরোধে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে মল্লিকপুর স্টেশন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধ তুলতে গেলে গন্ডোগোল বাড়ে। পুলিশ লাঠি চার্জ করলে শুরু হয় পাথরবৃষ্টি। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এক পুলিশকর্মীর মাথা ফাটে। এই অবরোধের জেরে চূড়ান্ত নাকাল হতে হয় যাত্রীদের।

লক্ষ্মীকান্তপুর, ডায়মন্ডহারবার শাখায় আপ ও ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনেক স্টেশনে ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে যায় বারুইপুর পুলিশ জেলার দুই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এসডিপিও, সোনারপুর ও বারুইপুর থানার আইসি, সোনারপুর আরপিএফ, জিআরপির বিশাল বাহিনী। প্রায় চার ঘণ্টা অবরোধের পর পুলিশ ও শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক একলব্য চক্রবর্তী বলেন, প্রতিদিনই একই দাবিতে অবরোধ করা হচ্ছে। আমাদের ট্রেনচালকরা এর জেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। আমরা রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাব ট্রেন চলাচলের ব্যাপারে।এদিন সকাল ৭টার পর প্রথম সোনারপুর স্টেশনে অবরোধে নামেন মহিলারা। এই অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের সঙ্গে মহিলাদের বচসা বাধে।

সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। ঘুটিয়ারি শরিফেও অবরোধ হলে পুলিশ আধ ঘণ্টার মধ্যে তাও তুলে দেয়। এরপর পৌনে আটটা থেকে অবরোধ শুরু হয় মল্লিকপুর স্টেশনে। ডাউনডায়মন্ড হারবার লোকালকে আটকে দেওয়া হয় স্টেশনে ঢোকার মুখে। একই সঙ্গে মাঝপথে আটকে পড়ে আপ বারুইপুর লোকাল।

এরপর সোনারপুর জিআরপি অবরোধ তুলতে গেলে কার্যত তাড়া করে মারমুখী জনতা। লাঠি নিয়ে পুলিশের দিকে তেড়ে আসে তারা। এক মহিলা কনস্টেবলকে ভয়ে দোকানের ভিতরে ঢুকে আশ্রয় নিতে হয়। রাস্তায় দাঁড়ানো সোনারপুর জিআরপির গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। দফায় দফায় অবরোধ শুরু হয়। রেললাইনের সামনে বসে পড়ে উত্তেজিত জনতা। তাঁদের দাবি, লোকাল ট্রেন চালু করতে হবে। স্টাফ স্পেশাল ট্রেনে উঠতে দিতে হবে।

এছাড়া মল্লিকপুর স্টেশনে সব স্টাফ স্পেশাল ট্রেন দাঁড় করাতে হবে। এরপর সোনারপুর আরপিএফ, জিআরপি, থানার আইসি, বারুইপুর থানার আইসি সহ পুলিশ বাহিনী এলাকায় যায়। মাইকিং করে অবরোধ তুলে নেওয়ার আর্জি জানান সোনারপুর থানার আইসি। লোকজনকে বোঝানো হয়। সেইমতো সকাল ১১টা নাগাদ ডাউন ডায়মন্ড হারবার লোকাল ছেড়ে দেওয়া হয়।

এরপর আপ লাইনে অবরোধ তুলতে গেলে আরপিএফ আচমকা মারমুখী জনতাকে লাঠিচার্জ করে। এরপর আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশকে লক্ষ্য করে শুরু হয় পাথরবৃষ্টি। পাথরের আঘাতে এক পুলিশকর্মীর মাথা ফাটে। আবার পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে স্থানীয় শাসকদলের লোকজনকে দিয়ে বোঝানোর কাজ চালায়।

লাঠিচার্জে এক মহিলা আহত হয়েছেন, এই অভিযোগে আবার অবরোধ করে তারা। শেষে ১১টা ৫০ নাগাদ অবরোধ তুলে নেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। শুরু হয় ট্রেন চলাচল। মল্লিকপুরে ট্রেন যাত্রীরা বলেন, প্যাসেঞ্জার ট্রেন না চললে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলন হবে।

Related Articles

Back to top button