12 Jun 2021, 10:40 AM (GMT)

Coronavirus Stats

29,359,155 Total Cases
367,097 Death Cases
27,911,384 Recovered Cases
রাজ্য

বিধানসভা ভোটে জয়নগরে শাসকদলের ভিতর গুরু গৌর সরকারের সঙ্গে শিষ্য বিশ্বনাথ দাসের লড়াই এবার প্রকাশ্যে, হাসছেন ভোটাররা

রাজকুমার সূত্রধর : জয়নগরে একদা রাজনৈতিক গুরু গৌর সরকারের সঙ্গে শিষ্য বিধায়ক ও এবারের তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বনাথ দাসের প্রকাশ্যে লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে ভোটের ময়দানে বিরোধী সিপিএম, এসইউসি ও বিজেপির-সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার দলের বর্ষীয়ান নেতা গৌর সরকারের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে বিশ্বনাথবাবুকে। ফলে যতটা সহজ মনে হচ্ছিল তৃণমূলের বিজয় রথ এগোতে পারবে, ততটা হবে না বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই নিয়ে মিটিমিটি হাসছেন ভোটাররা। শনিবার বিকেলে কর্মী সম্মেলন করে গৌর সরকার ঘোষণা করে দিয়েছেন, এক এবং একমাত্র টার্গেট হল, বিশ্বনাথ দাস ও তৃণমূলকে জয়নগর থেকে উৎখাত করা। তিনি বলেন,

বিশ্বনাথকে হাত ধরে টিকিট দিয়েছি। বিধায়ক করেছিলাম। কিন্তু এখন এতটাই অসচ্ছ ও অহংকারী হয়ে গিয়েছে। মানুষের কাজে আসছে না। সেই কারণে দলের কাছে বলেছিলাম, বিশ্বনাথকে সরিয়ে নতুন মুখ দেওয়া হোক। এ নিয়ে গত ৩ মার্চ অভিষেক আমাকে ডেকেছিল। সেখানে বিধায়কের দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ জমা দিয়ে এসেছিলাম। ¯পষ্ট বলেছি প্রার্থী বদল করতে হবে। কিন্তু করেনি। তাই আমাদের পাল্টা জবাব দিতে হবে। তাতে দল থেকে বহিষ্কার করে কিংবা ফাঁসি দেওয়া হয়, হোক। ভয় পাই না। তিনি বলেন,

এই জয়নগর ময়দান থেকে প্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন দল তৈরির কথা ঘোষণা হয়েছিল। সেই সময় তার প্রধান সহচর ছিলাম আমি। বলতে পারেন, তৃণমূল দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে একজন। সেই গৌর সরকার ঘোষণা করছি, তৃণমূলকে এবার ঠাÐা ঘরে পাঠিয়ে দেবো। গৌর সরকার বলেন, দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলতেন, দলের কর্মীরা আমাদের স¤পদ। এখন দেখছি, একজন ঠিকাদার পি কে আসল স¤পদ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, দলের ভিতর যাঁরা আম্ফানের টাকা লুট করলো, গরীবদের সরকারি টাকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত করল, সেই বিশ্বনাথ দাস ও তাঁর সহচররা দলের স¤পদ হয়ে গেল।

এখন আর দিদির কথার কোনও মূল্য নেই। আজকে আমাদের মতো পুরাতন কর্মীদের এই অসম্মান করে দলের বিরুদ্ধে যাওয়ার জন্য দায়ী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। দলের বিরুদ্ধে যাওয়াতে বিজেপির সুবিধা হতে পারে? এই প্রশ্ন শুনে গৌরবাবু বলেন, যদি তাই হয়, হবে। আমাদের কিছু করনীয় নেই। কারণ, দলের জন্য অনেক করেছি। নিজের শরীরের দিকে ফিরে তাকাইনি। হার্ট বøক হয়েছিল। সে সময় দল থেকে এক পয়সা সাহায্য করেনি। সিপিএম, এসইউসি, কং থেকে সাহায্য করেছিল। সে সব কথা ভুলে যাই কি করে।
বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস বলেন,

‘উনি কি বলছেন তা নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো সময় আমাদের নেই। ওঁনার সঙ্গে কোনও লোকই নেই। পাগলের প্রলাপ বকছে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button