05 Aug 2021, 4:19 AM (GMT)

Coronavirus Stats

31,815,756 Total Cases
426,434 Death Cases
30,974,748 Recovered Cases
খবরদক্ষিণ ২4 পরগণা

বারুইপুর হাসপাতালে হঠাৎ পরিদর্শনে এসে নানা অব্যবস্থা চাক্ষুষ করলেন জেলাশাসক

প্রদীপকুমার সিংহ, বারুইপুর: শনিবার দুপুরে বহরুতে এক কাজে এসে হঠাৎ বারুইপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ঝটিকা সফরে এলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাশাসক পি উলগানাথন। সঙ্গে ছিলেন বারুইপুরের ডেপুটি কালেক্টর রাখি পাল। মূলত কোভিড পরিস্থিতি সহ হাসপাতালের অন্যান্য পরিষেবা ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, তা সরজমিনে দেখতেই হাসপাতালে এলেন জেলাশাসক।

এখন কোভিড পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। হাসপাতালের দন্ত, সার্জারি, নাক-কান-গলা বিভাগ সহ অন্যান্য বহির্বিভাগ বন্ধ, ইউএসজি মেশিন খারাপ। হাসপাতালের নার্স আবাসনের নীচে জল জমে থাকার দৃশ্য দেখে কার্যত তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেন হাসপাতালের সুপার ডঃ ঈশ্বর চট্টোপাধ্যায়কে।

জেলাশাসক অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন চিকিৎসা পরিষেবায় খামতির অভিযোগ শুনে। জরুরি ভিত্তিতে মহকুমাশাসকের প্রতিনিধিকে নির্দেশ দেন আগামী সোমবার সমস্যা নিয়ে আলোচনায় বসতে। কী কী সমস্যা আছে, তা খতিয়ে দেখে অবিলম্বে তাঁকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় এক রোগীর কাছে সমস্যার কথাও শোনেন জেলাশাসক।

ওই রোগী অভিযোগ করেন, জয়নগর থেকে হাসপাতালে নাতিকে হাত ভাঙা অবস্থায় নিয়ে এসেও চিকিৎসকের কাছে রোগীদের লম্বা লাইন থাকায় দেখাতে পারেননি। সঙ্গে সঙ্গে জেলাশাসক সুপারকে নির্দেশ দেন তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করাতে। সেই সঙ্গে কর্মী আবাসনের নীচে জল জমা নিয়েও সুপারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলাশাসক। অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু করাও নিয়ে কথা বলেন হাসপাতালের আধিকারিকদের সঙ্গে।

পাশাপাশি, হাসপাতালের ভ্যাকসিন পরিষেবা ঠিকঠাক আছে কি না, তারও খোঁজ নেন তিনি। জেলাশাসক বলেন, যে কর্মীরা ভ্যাকসিন দিচ্ছিলেন, তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, প্রতিদিন কত জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। কর্মীরা বলেন, রোজ ১০০ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। জেলাশাসক বলেন, আগামী দিনে এখান থেকে ২০০ জনকে ভ্যাকসিন যাতে দেওয়া যায়, তার ব্যবস্থা করবেন।

সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, কিছু সমস্যা আছে, চিকিৎসক ঠিক আসছেন না অভিযোগ আছে। ইউএসজি মেশিন নিয়েও সমস্যা আছে। আবাসনের নীচে ড্রেনেজের সমস্যাও দেখা হয়েছে। সবই দেখা হয়েছে। আমরা সব সমস্যা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব। তবে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসার আগে ২০ বেডের এইচডিইউ ইউনিট যত তাড়াতাড়ি চালু করা যায়, তাও দেখা হবে।

বারুইপুর হাসপাতালের সুপার ডাঃ ঈশ্বর ভট্টাচার্যকে কার্যত জেলাশাসক ভর্ৎসনা করেন হাসপাতালে এই অব্যবস্থার জন্য। তবে ডেপুটি কালেক্টর রাখি পাল ও হাসপাতালের আধিকারিকদের তিনি বলেন, আগামী সোমবার হাসপাতালের সমস্যাগুলি নিয়ে মিটিংয়ে বসতে হবে। সব কথা আমাকে জানাতে হবে। তারপরই ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

Related Articles

Back to top button