05 Aug 2021, 6:20 AM (GMT)

Coronavirus Stats

31,855,725 Total Cases
426,782 Death Cases
31,007,795 Recovered Cases
খবরদক্ষিণ ২4 পরগণা

বারুইপুর রাসমাঠের রথযাত্রা বন্ধ ছিল করোনার কারণে, পদ্মপুকুরে রথযাত্রা

প্রদীপকুমার সিংহ, বারুইপুর‌‌: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের ঐতিহ্যবাহী রায়চৌধুরী বাড়ির রথযাত্রার সূচনা হয় প্রায় ৩০০ বছর আগে। সেই থেকে এখনও জমিদার বাড়ির রীতি রেওয়াজ মেনেই ধুমধাম করে পালিত হয়ে আসছে রথপুজোর অনুষ্ঠান। কিন্তু গত বছর থেকে করোনার অতিমারির কারণে বন্ধ রথযাত্রা।

এবারও প্রশাসনিক নির্দেশ মেনে রথযাত্রা বন্ধ রেখেছেন রায়চৌধুরী পরিবারের সদস্যরা৷ তবে মন্দিরে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার পুজোতে কোনও খামতি রাখা হয়নি। পুজো দিতে গেলেও মানতে হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। আগে রথ উপলক্ষে এলাকায় বিশাল মেলা বসত। এবার সব বন্ধ থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।সোমবার সকাল থেকে রায়চৌধুরী বাড়ির মন্দিরের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন বহু মানুষ।

রথযাত্রার অনুষ্ঠান বন্ধ থাকলেও প্রত্যেকে সামাজিক দূরত্ব মেনে মন্দিরে জগন্নাথ দেবের পুজো দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।রায়চৌধুরী বাড়ির বর্তমান কর্তা অমিয়কৃষ্ণ রায়চৌধুরী বলেন, আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে জমিদারি হাতে পেয়েছিলেন রাজবল্লভ চৌধুরী। বারুইপুরে আদিগঙ্গার পাড়ে প্রাসাদোপম বাড়ি, ঠাকুরদালান ও সেরেস্তা তৈরি করিয়েছিলেন তিনি।

তাঁর জমিদারি সুন্দরবন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। কর্নওয়ালিশের আমলে সেই জমিদারি ফুলেফেঁপে ওঠে। কথিত আছে, একদিন রাজবল্লভের ইচ্ছে হয়, পুরিতে জগন্নাথ দেবের দর্শনে যাবেন। কিন্ত রাতে স্বপ্নাদেশে পেয়ে নিজের বাড়িতেই জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে রথযাত্রার সূচনা করেছিলেন। সেই থেকে এখনও নিয়ম মেনে চলছে বারুইপুরের রায়চৌধুরী বাড়ির রথের পুজো।

একসময় ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বেশ কিছুদিন এই বাড়িতেই অবস্থান করেছিলেন। ‘দুর্গেশনন্দিনী’ উপন্যাসের বড় অংশই এই বাড়িতে বসে লেখা হয়েছিল বলে শোনা যায়।এদিন বারুইপুরের পদ্মপুকুরের ইয়ুথ ক্লাবের রথযাত্রার শুভসূচনা করেন বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

এখানে উপস্থিত ছিলেন বারুইপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি গৌতম দাস, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কানন দাস সহ ভক্তগণ। পদ্মপুকুর ইয়ুথ ক্লাব থেকে পদ্মপুকুর পেট্রোল পাম্প, বারুইপুর রেল গেটের সামনে দিয়ে বারুইপুর বিশালক্ষী মন্দিরের কাছে শেষ হয় এই রথযাত্রা। আবালবৃদ্ধবনিতা কোভিড বিধি মেনে রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছিল। প্রত্যেক ভক্তকে জগন্নাথ দেবের মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।

Related Articles

Back to top button