24 Jul 2021, 11:09 AM (GMT)

Coronavirus Stats

31,332,159 Total Cases
420,043 Death Cases
30,503,166 Recovered Cases
Breaking NewsTop Newsখবররাজ্য

পরিবারের ৪ জনকে জ্যান্ত সমাধিস্থ ছেলের, স্বীকার করল নিজেই

স্টাফ রিপোর্টারঃ মা, বাবা, ঠাকুমা ও বোন৷ পরিবারের চারজনকে খুন করে বাড়িতেই পুঁতে দিয়েছিল বাড়ির ছোট ছেলে৷ তারপর সেই বাড়িতেই বহাল তবিয়তে বাস করছিল আসিফ মেহবুব নামে ওই অভিযুক্ত। এক বা দুদিন নয়, এভাবে চারটা মাস কেটে যায়৷ কোনওরকমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন দাদা৷

কিন্তু ভয়ে এতদিন মুখ খুলতে পারেননি৷ অবশেষে সাহস জুগিয়ে স্থানীয় থানায় গিয়ে গোটা ঘটনা খুলে বলেন৷ শুনে অবাক পুলিশ৷ প্রথমে বিশ্বাসই করতে চায়নি তারা৷ অবশেষে শুক্রবার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে খুনি ভাইকে ধরিয়ে দিলেন দাদা৷ গায়ে কাঁটা দেওয়া এই ঘটনা মালদার কালিয়াচকের৷ জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছে আসিফ৷ কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের বীরনগর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পুরানো ১৬ মাইল এলাকার বাসিন্দা জাওয়াদ আলি (৫৩) ৷ যিনি ছিলেন অভিযুক্তের বাবা। সেই জাওয়াদের পরিবারে ছিল মা আলেকজান বিবি (৭২), স্ত্রী ইরা বিবি (৩৮), দুই ছেলে ও এক মেয়ে৷ বড় ছেলে রাহুল শেখ সেভাবে কাজকর্ম করেন না৷ পারিবারিক জমিজায়গার দেখাশোনা করেন৷

বাড়ির ছোট ছেলে আসিফ মেহবুব ওরফে আন্নান স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র৷ মেয়ে আরিফা খাতুন (১৩) গ্রামেরই একটি স্কুলের ছাত্রী৷ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আন্নান বাড়িতেই জলের মধ্যে শ্বাসরোধ করে মা-বাবা, ঠাকুমা ও বোনকে খুন করে খুন করে৷ এরপর বাড়িতেই দেহগুলি পুঁতে দেয়৷ ঠিক কীভাবে পরিবারের চারজনকে খুন করল, তা নিজে মুখেই স্বীকার করেছে অভিযুক্ত আসিফ মহম্মদ। এ বিষয়ে মালদহের পুলিশ সুপার জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে তিনটা নাগাদ ঠান্ডা পানীয়র সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাবা, মা, দাদা, বোন এবং দিদাকে খাওয়ায় আসিফ। অচৈতন্য হয়ে পড়েন প্রত্যেকে। তারপরই তাঁদের মুখে সেলোটেপ লাগিয়ে দেয় সে। বেঁধে দেওয়া হয় হাত-পা। এদিকে, হত্যাকাণ্ডের আগে থেকেই গুদামঘরে একটি চৌবাচ্চা তৈরি করেছিল আসিফ। অল্প অল্প করে তাতে জলও জমায় সে।

গুদামঘরে যাতায়াতের জন্য তৈরি করে একটি সুড়ঙ্গ। ঘটনার দিন সুড়ঙ্গের মাধ্যমে গুদামঘরে একে একে পাঁচজনকে নিয়ে যাওয়া হয়। চৌবাচ্চায় ফেলে দেওয়া হয় প্রত্যেককে। তবে আসিফের দাদা আরিফ ভাইয়ের সঙ্গে কোনওক্রমে মারামারি করে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে কলকাতায় চলে যান। এদিকে, আসিফ ওই চৌবাচ্চার উপরে সিমেন্ট, বালি চাপা দিয়ে দেয়। বাড়িতে স্থানীয়দের প্রবেশের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করে সে।দু-একদিন আগে মালদহে ফিরে আসেন অভিযুক্তের দাদা। পুলিশকে গোটা ঘটনা জানায়। এরপর ওই বাড়িটিতে হানা দেয় পুলিশ। অবশেষে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহ খুঁড়ে বের করা হয়। তারপরই গোটা ঘটনাটি সামনে আসে। তবে পুলিশকে ভাইয়ের ‘কীর্তি’ জানাতে কেন চার মাস সময় নিলেন আরিফ, সেই প্রশ্নও ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। অভিযুক্ত আসিফের ঘর থেকে বেশ কয়েকটি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ল্যাপটপও মিলেছে।

এছাড়াও বাড়ি থেকে কয়েক লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, সম্পত্তিগত বিবাদের জেরে খুন করা হয়েছে প্রত্যেককে। আসিফকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পরই সমস্ত তথ্য সামনে আসবে বলেই মনে করছে পুলিশ।

Related Articles

Back to top button