24 Jul 2021, 4:36 AM (GMT)

Coronavirus Stats

31,331,145 Total Cases
420,038 Death Cases
30,495,352 Recovered Cases
খবরদক্ষিণ ২4 পরগণা

নদীর জোয়ার-ভাটার গতিতে ভেসে চলেছেন মৌশুনীর বৃদ্ধ দম্পতি

রবীন্দ্রনাথ মন্ডল ও অমিত মন্ডল, নামখানা : সেদিনের ভয়াবহ দৃশ্য এখনও চোখের সামনে ভাসছে। আর এখন নৌকার মধ্যে ভাসছে তাঁদের জীবন। এসব যেন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। কিছুদিন আগে পর্যন্ত যাঁদের জীবন যাপন স্বাভাবিক স্বাচ্ছন্দে কাটছিল, এখন তাঁরাই দিশাহীন হয়ে পড়েছেন। কিভাবে কাটবে ভবিষ্যৎ, তা নিয়ে বেশ চিন্তিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নামখানার মৌশুনী দ্বীপের বাসিন্দা শিবরাম মাইতি।

অতীত ভুলে গিয়ে এখন এই মাইতি পরিবার নৌকার পাটাতনে সংসার পেতেছেন। কিন্তু কেন? ৭৭ বছর বয়সের শিবরাম বাবু কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বললেন, জীবনে কোনদিন এরূপ নোনা বন্যা দেখিনি। ২৬শে মে সকাল ৯টার সময় চারিদিক থেকে ধেয়ে এল নদীর নোনা জল। নিমেষের মধ্যে প্রায় ডুবে গেল আস্ত মাটির বাড়ি। কোন রকমের বড় ছেলের বাড়িতে ঠাঁই নিয়েছিলেন বৃদ্ধ দম্পতি। কিন্তু সেই বাড়িতেও তখন প্রায় এক বুক সমান জল।

এরপরই বৃদ্ধ দাদু দিদাকে একটি ভুটভুটিতে তুলে দিয়ে যায় নাতী। সেই থেকে আজও পর্যন্ত ওই ভুটভুটিতেই ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে জীবন যাপন করছেন শিবরাম বাবু ও তাঁর স্ত্রী কমলা দেবী। ছোট ছেলে দিনমজুরের কাজ করেন। সকালবেলা তিনি বেরিয়ে যান, রাত্রি নাগাদ ভুটভুটিতে ফেরেন। কোন রকমের দুবেলা দু’মুঠো খেয়ে কাটছে তাঁদের জীবন।

বাড়ি ফেরার ইচ্ছে থাকলেও, তা এখনই সম্ভব নয়। ঘূর্ণিঝড় যশ ও পূর্ণিমার ভরা কটালের জলোচ্ছ্বাসে পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে তাঁদের স্বপ্নের বাড়ি। এখন ভুটভুটিই তাঁদের ভরসা। কবে বাড়ি ফেরা হবে, তা জানা নেই তাঁদের।আতঙ্ক ও ভয় এই দুইকে সঙ্গী করেই তাঁরা এখন নৌকাতেই বসবাস করছেন। প্রায় প্রতিদিন বসে বসেই কেটে যায় তাঁদের রাত টুকু।

বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে সারাক্ষণই আতঙ্কে থাকেন তাঁরা। বজ্র ও বিদ্যুতের ঝলকানির সঙ্গে মিশে যায় তাঁদের দীর্ঘ নিশ্বাস। এরপর রয়েছে নদীর জোয়ার-ভাটার খেলা। ভুটভুটির দোলাতে সারাক্ষণই দুলছে তাঁদের প্রাণ পাখি।প্রায় এক মাস কেটে গিয়েছে। আরও কত দিন এভাবে কাটবে, তা জানা নেই তাঁদের। তারা শুধু জানেন, সময়ই পারে জীবনের গতি ফেরাতে।

Related Articles

Back to top button