26 Jul 2021, 7:23 AM (GMT)

Coronavirus Stats

31,439,764 Total Cases
421,411 Death Cases
30,613,047 Recovered Cases
Uncategorized

দুই সন্তানকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছে দাস পরিবার

বিশ্ব সমাচার, নামখানা : দুই ভাই। বড় ৩৫ বছরের সৈকত দাস। আর ছোট হলেন ২৮ বছরের সৌরভ। নামখানার দশমাইল থেকে বকখালি যাওয়ার পথে দেবনিবাস গ্রামের বাসিন্দা তাঁরা। বুধবারের অভিশপ্ত এফ.বি. হৈমবতী ট্রলার দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে সৈকত ও সৌরভের। বুধবার গভীর রাতে ফ্রেজারগঞ্জের বালিয়াড়ায় ট্রলারের কেবিন থেকে দুই ভাইয়ের নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছে।

রাতেই দেহ দুটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল কাকদ্বীপের লাশ কাটা ঘরে। সেদিন থেকে দেবনগর গ্রামের দাস পরিবারের বাড়ি জুড়ে শুধুই হাহাকার আর আর্তনাদ। ময়নাতদন্তের পর রাতে মৃত ৯ জন মৎস্যজীবীর সঙ্গে ফেরে দুই ভাইয়ের দেহ। গ্রামের মানুষের ঢল নামে দাস বাড়ির সামনে। এখন দাস বাড়িতে শুধুই শোনা যায় সৈকত ও সৌরভের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আর্তনাদ।

দুই সন্তানকে হারিয়ে পিতা ও মাতা আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে লড়াই করে দুই সন্তানকে বড় করেছেন গোপালবাবু। এখন তিনি অবসর নিয়েছেন। তাঁর ভরসা ছিল এই দুই সন্তানের ওপর। ছেলেদের পড়াশোনাও করিয়েছেন। কিন্তু মাধ্যমিক পাশের পর টানাটানির সংসারে আর দুই সন্তানকে পড়ানো সম্ভব হয়নি। অভাবের সংসারের হাল ধরতে ট্রলারের কাজ নেয় দুই ভাই। নিয়মিত দুই ভাই ট্রলারে মাছ ধরার কাজও করেন। তবে সৈকত বছর দুই আগে পেশা বদল করেছিলেন।

ট্রলারের কাজ ছেড়ে অন্য কাজ করতেন। দু’বছর সেই কাজও করেছেন। কিন্তু টানা লজডাউনের জেরে সেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অগত্যা এই বছর ট্রলারে রান্নার কাজের জন্য তাঁকে ছোট ভাই নিয়ে গিয়ে ছিলেন। টানা ৬ বছর এফ.বি. হৈমবতী ট্রলারে কাজ করেন সৌরভ। ভাই আর দাদা একই ট্রলারে চেপে গত সোমবার গভীর সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিলেন। মাছ ধরে ফেরার পথে ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সৈকত বছর আটেক আগে বিয়ে করেছেন। এক মাত্র মেয়ের বয়স এখন সাড়ে ৬ বছর।

স্বামীর মৃত্যুতে আজ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্ত্রীও। ছোট্ট মেয়ে বাবার মৃত্যু সংবাদ শোনার পর মা ছাড়া হয়নি। মায়ের কান্না দেখে এক রত্তি মেয়ের চোখও জলে ভরা। বাবা গোপাল দাস বৃহস্পতিবার দুপুরে নামখানা বিডিও অফিস থেকে দুই ছেলের নামে চার লক্ষ টাকার চেক নিতে এসেছিলেন।

প্রশাসনিক আধিকারিক দুই ছেলের নাম ডাকার পর, অশক্ত শরীর নিয়ে এগিয়ে যান বৃদ্ধ পিতা। দুটি চেক যত্নে রাখার পরামর্শ দেন প্রতিবশী ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তখন বৃদ্ধ পিতা বিড় বিড় করে মনে মনে বলতে থাকেন, দুই অবলম্বনই যখন চলে গেল, তখন টাকায় আর কি হবে?

Related Articles

Back to top button