23 Sep 2021, 2:47 AM (GMT)

Coronavirus Stats

33,586,892 Total Cases
446,279 Death Cases
32,832,371 Recovered Cases
খবরদক্ষিণ ২4 পরগণা

গাছের সঙ্গে বাঁশ দিয়ে মাচা বেঁধে বসবাস করছেন মল্লিক পরিবার

অমিত মন্ডল ও রবীন্দ্রনাথ মন্ডল, নামখানা : গাছ নড়লেই, নড়ে ওঠে বাসস্থান। ভেঙে যায় ঘুম। ভয় লাগলেও, চুপটি করে বসে থাকতে হয় সেই বাসস্থানেই। এভাবেই এখন দিন কাটছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নামখানার মৌসুনি দ্বীপের পয়লা ঘেরীর বাসিন্দা ইউনিস মল্লিকের পরিবারের। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে এভাবেই রাত্রিযাপন করছেন তাঁরা। এখনও পর্যন্ত তাঁদের চোখে মুখে রয়েছে সেই দিনের ভাইয়ের আতঙ্ক। ঘূর্ণিঝড় “যশ”-এর সময় নদীর নোনা জলে প্লাবিত হয়ে ভেঙে গিয়েছে তাদের বসতবাড়ি। আর তারপর থেকেই খেজুর গাছের সঙ্গে বাঁশ দিয়ে মাচা বেঁধে বসবাস করছেন মল্লিক পরিবার।

মাচার নিচে রয়েছে গবাদি পশু। মাচার উপরে কোনরকমের শুয়ে রাত্রিযাপন করেন তাঁরা। বৃষ্টি ও বাজ পড়লে ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে মাচার উপরে বসে থাকেন মল্লিক পরিবারের সদস্যরা। তবে দমকা হাওয়া হলে মনের ভয় অনেকটাই বেড়ে যায়। কারণ গাছের সঙ্গে তাদের অস্থায়ী বাসস্থানও দুলতে থাকে। সেই সময় কোন রকমের বাঁশ খুঁটি আগলে ধরে বসে থাকেন তাঁরা। এমনকি মাচাতে ওঠার সিঁড়ি পর্যন্ত দুলতে থাকে। এইরূপ পরিস্থিতিতে অনেক সময় ঠিকমতো রান্না খাওয়াও করতে পারেন না তাঁরা। এই বিষয়ে ইউনিস মল্লিকের স্ত্রী বলেন, “ঘূর্ণিঝড় “যশ”-এর সময় নোনা জলে প্লাবিত হয়ে পুরো বাড়িটাই ভেঙে গিয়েছে।

এরপর একটি খেজুর গাছের সঙ্গে বাঁশ দিয়ে মাচা বেঁধে বসবাস করছেন তাঁরা। কিন্তু ঝড় বৃষ্টির দিন পরিবারের সবাইকেই ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়। আর এই ভাবেই ২ মাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁরা বসবাস করছেন।” তবে নদীর জল, এমনকি বৃষ্টির জল এলাকায় জমে থাকার কারণে এই সমস্যা বেশ প্রকট হয়েছে। এ বিষয়ে নামখানার ভিডিও শান্তনু সিংহ ঠাকুর জানান, নদীর জলোচ্ছ্বাস ও প্রবল বৃষ্টির জেরে বহু জায়গায় এখনও পর্যন্ত জল জমে থাকার কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে জল নেমে গেলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হয়ে গেলে, যেসব এলাকাবাসী সমস্যার মধ্যে রয়েছেন তাঁদের পাশে ব্লক প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন অবশ্যই থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের সব রকমের সাহায্য করা হবে।

Related Articles

Back to top button