29 Jul 2021, 12:13 PM (GMT)

Coronavirus Stats

31,528,114 Total Cases
422,695 Death Cases
30,701,612 Recovered Cases
খবরদক্ষিণ ২4 পরগণা

কটাল থেকে সুন্দরবনকে বাঁচাতে সতর্কতা

সমরেশ মণ্ডল, সাগর: যশের পর এবার জলোচ্ছ্বাসের কবল থেকে সুন্দরবনকে বাঁচানোই বড় চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের। গত ১০ জুনের কটালে তেমন কোনও ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি সুন্দরবন। কিন্তু শনিবারের পূর্ণিমার ভরা কটালে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা পুনরায় জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে এক সাংবাদিক সম্মেলনে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে যাতে পুনরায় জল না ঢোকে, তার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে ব্লক প্রশাসন পর্যন্ত সবাইকে আগাম প্রস্তুতির ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সুন্দরবনের দ্বীপাঞ্চল এবং উপকূল এলাকার কয়েক হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হয়েছে।

যশ এবং কটালের সময় দুর্গত এলাকার যে সব মানুষ ফ্লাড সেন্টার এবং স্কুলবাড়িতে রয়েছেন, তাঁদেরকে সেখানেই থাকতে বলা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে প্রশাসনের তরফে সাগর ব্লকের ভাঙন কবলিত ঘোড়ামারা দ্বীপের কয়েক হাজার মানুষকে সরিয়ে আনা হল মূল ভূখণ্ডে। একদিকে শনিবার পূর্ণিমার ভরা কটালে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় পুনরায় জল ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, টানা কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির ফলে বেশ কিছু এলাকায় এখনও জল জমে আছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে সুন্দরবন-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনা উপকূলের একাধিক এলাকা জলমগ্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয় গোসাবা, সাগর, নামখানা, কুলতলি এবং পাথরপ্রতিমা ব্লকে। কিন্তু প্রশাসনের তৎপরতায় সর্বত্রই তড়িঘড়ি বাঁধ মেরামতিতে নেমে পড়ে সেচ দফতর।

সুন্দরবনের যে সমস্ত নদী ও সমুদ্রবাঁধ যশের অভিঘাতে বেহাল হয়ে পড়েছিল, সেগুলির অনেকটাই মেরামত করতে সক্ষম হয়েছে তারা। যশে বিধ্বস্ত এলাকাগুলি নতুন করে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই জোরকদমে চলছে বাঁধ মেরামতির কাজ। পাশাপাশি, উপকূলবর্তী কিছু এলাকা থেকে গ্রামবাসীদের সরিয়ে আনা হচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়ে।

শনিবার পূর্ণিমার ভরা কটালে নদী ও সমুদ্রের জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা। তাই সুন্দরবন এলাকার উপকূল অঞ্চলে মাইকে সতর্কতামূলক প্রচার করছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার সেই সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেচ দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা, কাকদ্বীপের মহকুমা শাসক, সার্কেল ইন্সপেক্টর, সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

জলপথে ভেসেলে তাঁরা সুন্দরবন তথা সাগর ও ঘোড়ামারা দ্বীপের ক্ষতিগ্রস্ত নদীবাঁধগুলির পুনর্গঠনের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। উপকূল এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বহু বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। পরে কিছু বাঁধ মেরামতি হলেও তার অবস্থা কেমন, তা খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী। যশ এবং ভরা কটালের জেরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় প্রায় ১৮০ কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল।

পুনরায় তা মেরামত করা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। বঙ্কিমবাবু বলেন, বেশির ভাগ জায়গাতেই বাঁধ তৈরির কাজ প্রায় শেষ। টানা বৃষ্টির ফলে কিছু বাঁধের কাজ আটকে ছিল, পরে তা শেষ করা গিয়েছে। আশা করি, যশে যে পরিমাণ নোনা জল সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবেশ করেছিল, তা এবার হবে না।

Related Articles

Back to top button