13 Jun 2021, 2:37 AM (GMT)

Coronavirus Stats

29,485,065 Total Cases
371,225 Death Cases
28,102,978 Recovered Cases
রাজ্য

একঝাঁক স্বপ্ন নিয়ে ‘সোনার বাংলা’ গড়তে আগ্রহী মোদী

নিজস্ব সংবাদদাতা : “বাংলা চায় উন্নতি। বাংলা চায় শান্তি। বাংলা চায় প্রগতিশীল বাংলা। বাংলা চায় সোনার বাংলা। আর সেই সোনার বাংলা গড়াই বিজেপির লক্ষ্য।” রবিবার তিলোত্তমার বুকে দাঁড়িয়ে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী। ব্রিগেড ময়দানে দাঁড়িয়ে বাংলার মানুষের কাছে নিজেকে স্বপ্ন পূরণের কান্ডারী রূপে তুলে ধরলেন। বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার আসল অর্থও বিস্তার করলেন তিনি।

শুধুমাত্র ২০২১ সালের নির্বাচন নয়, দীর্ঘদিন বাংলার সিংহাসনে থাকার ইচ্ছাপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর। ব্রিগেড ময়দানে তাঁর দীর্ঘ ভাষণের সিংহভাগ জুড়েই ছিল বাংলার পরিবর্তনের বার্তা। বাংলার সাধারণ মানুষ থেকে কলাকুশলী, সবার মনের ইচ্ছা বাংলা উন্নতির শিখরে পৌঁছাক। আর সেই পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর বিজেপি। এমনটাই দাবী করে প্রধানমন্ত্রী জানায়, আগামী ২৫ বছরে এই স্বপ্নপূরণ হবে। আর আগামী পাঁচবছরে সেই স্বপ্নের ভীদ প্রতিস্থাপিত হবে। উল্লেখ্য, ২০৪৭ সালে দেশ স্বাধীনতার ১০০ বছর উদযাপন করবে। প্রধানমন্ত্রীর কথায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে ততদিনে বাংলা দেশের শিখরে পৌঁছাবে।

কিন্তু কী পরিবর্তন আসবে? নিজেই প্রশ্ন তুলে উত্তরে বলেন, ‘ বাংলায় বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে, বিনিয়োগ বাড়বে, বাংলার সংস্কৃতি ও পরম্পরার রক্ষা হবে।’ আর সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে বিজেপি ২৪ ঘন্টা কাজ করবে। এমনটাই দাবী প্রধানমন্ত্রীর। তিনি আরো বলেন, “শুধু ভোট নয়। সবসময়ই বাংলার মনজুড়ে থাকতে চাই। বাংলার মানুষের উপকার বিজেপির প্রাধান্য।” এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। আরো প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “বাংলার পঞ্চায়েত পরিকাঠামোয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে। পুশিলি ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে। পরীক্ষায় দুর্নীতি হবে না। স্কিল ডেভেলপমেন্ট স্বচ্ছতার সঙ্গে হবে। কারিগরি, চিকিৎসার মতো বিষয়ে পঠনপাঠন যাতে বাংলায় হয়, তার ব্যবস্থাও করা হবে। ইংরেজি না জানলেও গরিবের ছেলেমেয়েরা যাতে ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পারে, সেই ব্যবস্থাও আমরা (বিজেপি) করব।”

পূর্বের মতো এদিনও বিপক্ষকে আক্রমণ করেন তিনি। তৃণমূলকে চেনা ঢঙেই ‘কাটমানির সরকার’ বলে তিরস্কার করেন। বলেন, ‘দিদির ইচ্ছা নিজেও কাজ করবো না অপরকে করতেও দেবো না।’ অভিযোগ তুলে বলেন, ‘রাজ্যে মেট্রো রেলের বিকাশ তীব্র গতিতে এগোচ্ছে। কিন্তু এদের (তৃণমূল) কমিশনের জেরে বিমান বন্দরের বিকাশ হচ্ছে না।’ প্রধানমন্ত্রী কিসান সন্মান নিধি নিয়েও অভিযোগ তুলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বাম-কংগ্রেস জুটিকেও কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, বামেরা আওয়াজ তুলেছিল, ‘কংগ্রেসের কালোহাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও। আর সেই বামেরা এখন সেই হাতের আশীর্বাদ নিচ্ছে।’

‘স্বাধীনতার আগে বাংলা দেশের মধ্যে এক প্রগতিশীল রাজ্য ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর বাংলা থেকে সবকিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’ এমন দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর যা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তা ফিরিয়ে দেব।’ কলকাতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কলকাতাকে ‘সিটি অফ জয়’ (আনন্দের শহর) বলা হয়। সেই শহর ‘সিটি অফ ফিউচার’ (ভবিষ্যতের শহর) হবে। এভাবেই ব্রিগেড ময়দানে প্রতিশ্রুতির বৃষ্টিতে বাংলার মন ভিজিয়ে গেলেন তিনি।

কিন্তু তাতে কি চিড়ে ভিজবে? উত্তর জানা যাবে ২ মে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button